রাজ্যে জাল তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্রের ছড়াছড়ি। অথচ উপজাতি দরদের মায়া কান্নায় ব্যস্ত বাম ও রাম উভয় দলই

নিজস্ব প্রতিনিধি – জোট আমল ও বাম আমলে একের পর এক জাল তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র দিয়ে সরকারি চাকুরি বাগিয়ে নেওয়ার প্রতারকরা রাম আমলেও বহাল তবিয়তে। তীব্র ক্ষোভ উপজাতি অংশের মানুষের মধ্যে।

এই সংবাদ কোন জাতিগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং রাজ্যের উপজাতি অংশের মানুষের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও বর্তমান সরকারের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার প্রয়াস মাত্র।

বিগত 3/10/2002 ইং তারিখে রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের কমিশনারের স্বাক্ষরিত একটি নোটিফিকেশান প্রকাশ করে ত্রিপুরা উপজাতি কল্যাণ দপ্তর। যাতে স্পষ্ট বলা হয় মগ বড়ুয়া সমেত কোন বরুয়া সম্প্রদায়ের  মানুষ তপঃশিলী উপজাতি হিসেবে পরিগণিত নন। যদি বড়ুয়া সম্প্রদায় কোন মানুষ উপজাতি শংসাপত্র পেয়ে থাকেন তা যেন অবিলম্বে বাতিল করে দেওয়া হয়।

তারপরও কিভাবে বাম আমলে একের পর এক বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বাম নেতা পুত্ররা তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে চাকুরি হাতিয়ে নিয়েছেন তা নিয়ে রাজ্যের উপজাতি অংশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী জোট আমলে ও বাম আমলে জাল তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে যারা সরকারি চাকুরী বাগিয়ে নিয়েছেন রাম আমলেও তারা কি করে বহাল তবিয়তে আছেন।  

তবে এই ধরনের ঘটনা সবচাইতে বেশি ঘটেছে রাজ্যের কাঞ্চনপুর মহাকুমায়। অভিযোগের তীর প্রাক্তন বিধায়ক রাজেন্দ্র রিয়াং ও উপজাতি  স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের সদস্য ললিত দেবনাথ এর দিকে। তারা শুধু বাড়তি কামাই বাণিজ্যের স্বার্থে জাল তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্রের বিষয়টি জেনে বুঝেও, কিছু কিছু বামনেতা পুত্রকে আইন বহির্ভূত বাড়তি সুযোগ প্রদানে বেগার খেটেছেন।

অন্যদিকে সত্যান্বেষীর পক্ষ থেকে বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায় তারা মাইনরিটি অংশের মানুষ। বর্তমান সরকার তাদের মাইনরিটি হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রদান করেছেন। এখানেও প্রশ্ন, একই জনগোষ্ঠীর মানুষ একসাথে মাইনোরিটি ও তপঃশিলী উপজাতি এই দুটি জনগোষ্ঠীর সুবিধা ভোগ করতে পারেন কি করে?

অন্যদিকে বড়ুয়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান বাম আমলে কিছু কিছু বামনেতা পূত্ররাই ললিত নাথ ও রাজেন্দ্র রিয়াংকে খুশি করে এই তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে চাকরি বাগিয়ে নিতে পেরেছেন কিন্তু তাদের জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষিত বেকারদের বহুলাংশেই সরকারি চাকরি জুটেনি এই দুই নেতাকে খুশি করতে পারেননি বলে।

বরুড়া সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এও জানিয়েছেন বহু চাপাচাপির পরও বিগত সরকার গত 03/10/2002 ইং তারিখে করা নোটিফিকেশন বাতিল করেন নি। তাই এই তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র গুলো কোনো ভাবেই আইনগত ভাবে গ্রহন যোগ্য হতে পারে না। আর সেই একই কারণেই অবৈধ তপঃশিলী উপজাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে বাম আমলে চাকুরী বাগিয়ে নিলেও বর্তমান রাম আমলেও তারা কি করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তা নিয়ে বিশাল ক্ষোভ রয়েছে উপজাতি মানুষদের মধ্যে।

উপজাতি অংশের মানুষের প্রশ্ন, বারবার এডিসির ভোট আসলেই উপজাতি দরদের মায়াকান্না জুড়ে দেন বাম নেতৃত্ব। বর্তমান রাজ্য সরকারও সেই একই দিশায় চলছে নাতো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *