বাঃ রে উপজাতি দরদ

বাম আমলে উপজাতি উন্নয়নের নামে হাতিয়ে নেওয়া চুয়ান্ন লক্ষ টাকার স্পেসাল ইন্টারনাল অডিট রিপোর্ট রাম আমলে তৈরি হল ছয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে। পুরো বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলার উদ্যোগ ।

স্পেসাল অডিট রিপোর্টিতেই স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে গত ১৬/১১/২০১৫ ইং তারিখে লালজুড়ি আর ডি ব্লকের তৎকালীন বি ডি ও সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত ভাবে লালজুড়ি আর ডি ব্লকের অধীনে বীরসাই পাড়া চণ্ডীপুর এ ডি সি ভিলেজে একটি ওয়াটার হারভেসষ্টিং স্ট্রাকচার তৈরীর জন্য ৫৪,২১,১২৪ টাকার একটি ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করেন । যেখানে একজন বি ডি ও কোনো ভাবেই ১০ লক্ষ টাকার উপরে এধরনের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করতে পারেন না। তাই প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক সরকারী নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে তৎকালীন লালজুড়ি আর ডি ব্লকের বি ডি ও রাকেশ দেববর্মা কেন এই ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করেছিলেন ?
দ্বিতীয়ত কাজটির জন্য কেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের একজন অনিয়মিত বাস্তুকার( প্লাস্টিক ) মান্না দেবকে আই ও হিসেবে নিয়োগ করা হল ? তথ্যবিজ্ঞ মহলের ধারনা, বাস্তুকার মান্না দেবের পিতা কাঞ্চনপুর সি পি আই এম এর বিভাগীয় কমিটির কোষাধক্ষ । তাই কাঞ্চনপুরে প্রাসাদ সম সি পি আই এম দলীয় কার্য্য়ালয় তৈরীর উদ্দেশ্যে উপজাতি উন্নয়নের নামে টাকা নয় ছয় করার লক্ষ নিয়েই এই ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা হয় ।
তৃতীয়ত স্পেশাল ইন্টারনাল অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বাস্তুকার মান্না দেবের কথা অনুযায়ী গত ১২/০৬/২০১৭ ইং তারিখে প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারনে বাঁধটি ভেঙ্গে যায় । কিন্তু তার কোনো বৈধ প্রমান নেই। তাছাড়া কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় গত ১২/০৬/২০১৭ ইং তারিখে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা লিপিবদ্ধ নেই । উপরন্তু যদি এধরনের ঘটনা ঘটেও থাকতো তবে সাথে সাথে বাস্তুকার মান্না দেব বিষয়টি দপ্তরে লিখিত ভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল ।কিন্তু তিনি তাও করেন নি । যাতে আবারও স্পষ্ট মান্না দেব বাঁধ তৈরীর প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ।
অডিট রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে বাস্তুকার মান্না দেব কাজটির জন্য নির্ধারিত ১০০ মিলি মিটার ব্যাসের ১৭২.২০ মিটার জি আই পাইপের টাকাও আত্মসাৎ করেছেন । কিন্তু উপরন্তু দপ্তর তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয় নি ।
কিন্তু এত কিছুর পরও কাঞ্চনপুরের গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বাস্তুকার দীপক কর, সুজিত দত্ত, লিটন দাস ছয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাস্তুকার মান্না দেবকে পার পাইয়ে দিতে স্পেশাল ইন্টারনাল অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রস্থ নির্ধারিত কাজের পরিমাপ অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে। যা অতীব লজ্জার বিষয় । টাকার বিনিময়ে ইজ্জত বিক্রি করতে গিয়ে এই তিন বাস্তুকার যেন পাতিতাদেরও পেছনে ফেলে দিয়েছেন ।
সম্মানীয় পাঠকবর্গ আপনারাই দেখুন গত ১০/১১/২০১৬ ইং তারিখে লালজুড়ি ব্লকের তৎকালীন বিডিও জে রিয়াং কাঞ্চনপুর গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিককে, বাস্তুকার মান্না দেবের দুর্নীতির বিষয়ে অবগত করেছিলেন এবং সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে মান্না দেব কাজটির মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সম্পন্ন করে পুরো টাকাই উঠিয়ে নিয়ে গেছেন ।

অন্যদিকে স্পেশাল ইন্টারনাল অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী বাস্তুকার মান্না দেব কাজের কোন এম বি রেকর্ড করেন নি। তারপরও বাস্তুকার মান্না দেব কিভাবে বরাদ্দকৃত পুরো টাকা উঠিয়ে নিতে পারলেন ? মান্নার বাবা বকুল দেব সি.পি.আই.এম বিভাগীয় কমিটির কোষধক্ষ শুধুমাত্র কি এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ?
আরো উল্লেখিত বিষয় গত ২২/১১/২০১৯ ইং তারিখে উক্ত এলাকাবাসী বাস্তুকার মান্না দেবের দুর্নীতি নিয়ে উত্তর জেলার জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন । কিন্তু , আজও বাস্তুকার মান্না দেবের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি ।

সর্বোপরি গত ২৬/০১/২০২০ ইং তারিখে লালজুড়ি ব্লকের বর্তমান বিডিও পি দেববর্মা এক আর টি আইয়ের উত্তর দিতে গিয়ে জানিয়েছেন আই ও মান্না দেবের বক্তব্য অনুযায়ী কাজটি সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং সেই চিঠির উত্তরে বিডিও কোথাও গত ১২/০৬/২০১৭ ইং তারিখে অত্যাধিক বৃষ্টি ও বন্যার কারনে উক্ত বাঁধটি ভাঙ্গার কথা উল্লেখ করেন নি।

যাতে স্পষ্ট দুর্নীতিবাজ বাস্তুকার মান্না দেবকে বাঁচাতে দপ্তরের তিন বাস্তুকার ছয় লক্ষ টাকার বিনিময়ে অত্যাধিক বর্ষণ ও বন্যার কারনে বাঁধ ভাঙ্গার আসারে গল্প ফেদেছেন । তাই বাস্তব সত্য রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরতে এই তথ্য নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই শেষ কথা নয় । পুরো বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থে, জনস্বার্থ মামলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *