লাইসেন্স ও ভেন্ডার রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই কাঞ্চনপুর গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় আর এম নার্সারীর নামে ৮০৮৪০১২৫৭১৬৯০ নম্বরের একাউন্টের মাধ্যমে অর্ধকোটির উপর সরকারী টাকা লুট। রাজ্য তথ্য কমিশনের আদেশ এড়াল ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক।অভিযোগ এবার ডিরেক্টর অফ ভিজিলেন্স।

দপ্তরের প্রদেয় তথ্য অনুযায়ী প্রেম প্রতিক সিংহ বড়ুয়া পিতা প্রিয়জিত সিংহ বড়ুয়া এই নামে আর এম নার্সারী নামে কোন লাইসেন্স ইস্যু করেনি ডিরেক্টর অফ হর্টিকালচার এন্ড সয়েল কনজারভেশন। তার পরেও কাঞ্চনপুর সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ হর্টিকালচার এন্ড সয়েল কনজারভেশন দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর প্রেম প্রতিক সিংহ বড়ুয়া কি করে কারঞ্ছপুরের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় আর এম নার্সারির নামে ৮০৮৪০১২৫৭১৬৯০ নম্বরে একটি একাউন্ট খুলে ৫৩,১৮,৪০০ সরকারী টাকা হাতিয়ে নিতে পারলেন সেই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোষ্টকে ঘীরে ব্যপক চাঞ্ছল্য সৃষ্টি হয়। যার ফলে ঝরের গতিতে ভাইরাল হতে থাকে পোস্টটি ।

অন্য দিকে দপ্তরের প্রদেয় তথ্য অনুযায়ী কাঞ্চনপুর নিবাসী প্রিতম বড়ুয়া / পিতা যতনকান্তি বড়ুয়া এই নামেই আর এম নার্সারির লাইসেন্স ইস্যু করে দপ্তর।

তাই সম্পূর্ণ বিষয়টি জানতে সাত্যান্বেষী নিয়ুজ এজেন্সির পক্ষ্য থেকে আর এম নার্সারির মালিক প্রিতম বড়ুয়ার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা যায় কারঞ্ছনপুর হর্টিকালচার দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর প্রেম প্রতীক বড়ুয়া উনার লাইসেন্স স্কেন করে তার নাম ঠিকানা বসিয়ে একটি ডুপ্লিকেট লাইসেন্স কপি প্রিন্ট করে নেয়। তারপর কাঞ্চনপুরের সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ হর্টিকালচার এন্ড সয়েল কনজারভেশন দপ্তরের এগ্রি এসিস্টেন্ট সুজিত সিংহ বড়ুয়া সহ একাধিক অসাধু কর্মচারীর গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে লুট হয় অর্ধকোটির উপর সরকারী টাকা। তিনি আরও জানান তৎকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুজিত সিংহ বড়ুয়া তৎকালীন সময়ে দাপুটে সমন্বয় নেতা হওয়ার কারনে বারংবার দলবল নিয়ে প্রীতম বাড়ুয়াকে প্রান নাশ্বের হুমকি দিলে তিনি মামলা করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন ।


আরও অবাক করার বিষয়, ডিরেক্টর অব হর্টিকালচার থেকে শুরু করে কাঞ্চনপুর সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ হর্টিকালচার এন্ড সয়েল কনজারবেশনের দপ্তরেও নেই ভেন্ডার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। যাতে স্পষ্ট দুর্নীতিবাজরা অতি সুচারুভাবে বিশাল অংকের সরকারী টাকা আত্মসাতের কি ভীষণ নীল নক্সা একেছিল।

সর্বোপরি জনৈক রথীশ দেবনাথের এক আর টি আইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য তথ্য কমিশন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের এইচ ও ডি শ্রী টি রিয়াংকে আদেশ দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক কতৃপক্ষ রাজ্য তথ্য কমিশনের সেই আদেশ এড়িয়ে যায় ।

তাই এবার লাইসেন্স ও ভেন্ডার রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিশাল অংকের সরকারী অর্থ নয় ছয় করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য ডিরেক্টর অব ভিজিলেন্সের দ্বারস্থ হচ্ছেন সত্যান্বেষী নিউজ এজেন্সির পরিচালন অধিকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *